শহরটা বড়ই অদ্ভুত। দিনের বেলা যে শহর নিজেকে ভদ্র বলে দাবি করে, রাত হলেই তার ক্ষুধা জেগে ওঠে।
তাই শহরের এক কোণে তৈরি হয়েছে পতিতালয়। সেই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে কিছু নারী—যাদের নাম সমাজ খুব সহজেই দিয়ে দেয়, "বেশ্যা"।
সমাজ তাদের ছোঁয়াকে অস্পৃশ্য করে দিয়েছে। অথচ তাদের বাড়ির মাটি দিয়েই তৈরি হয় মায়ের মূর্তি।
কলকাতার এক পুরোনো গলির শেষ মাথায় থাকত মায়া, একজন দেহব্যবসায়ী। সারাদিন তার বিশাল ডিমান্ড। রাত হলে মুখে কাপড় বেঁধে অনেক ভদ্র বাড়ির ছেলেরাও আসে। যাদের শরীরটাই সম্বল, তাদের ভালো-মন্দের খোঁজ কেউ রাখে না।
কেউ জানত না, এই মায়ারও একটা মেয়ে ছিল। এখানে থাকলে তার মেয়েকেও একদিন এই অভিশপ্ত কাজে নামতে হবে, তাই সে তাকে অনেক দূরে এক অনাথ আশ্রমে দিয়ে এসেছে। বাবার পরিচয় জানা নেই, এমন মানুষদের ঠাঁই তো ওখানেই হয়।
পুজোর দিনে মায়ার খুব মেয়ের কথা মনে পড়ে। সকালে যখন ধূপ জ্বালিয়ে রেডিয়োতে মহালয়া শোনে, মনে হয় মেয়েটা থাকলে কত আনন্দ করত। চোখে জল চলে আসে।
এবার জন্মাষ্টমীর কয়েকদিন আগে খুব সকালে মায়ার বাড়িতে কড়া নাড়ার শব্দ হলো।
দরজা খুলে দেখল এক বৃদ্ধ।
— কী দাদু, এখানে?
— মা, একটু মাটি লাগবে।
— মাটি দিয়ে কী করবেন?
— ওই যে মা-কে গড়ব।
— কোন মা?
— ওই যে আমার, তোমার, সবার মা। মা দুর্গা।
মায়া একটু হেসে বলল,
— আচ্ছা দাদু, সমাজ তো আমাদের ছুঁতেও ঘেন্না করে। আমাদের ছায়াও মাড়াতে চায় না। আর সেই আমার বাড়ির মাটি দিয়ে হবে মায়ের মূর্তি?
বৃদ্ধ বললেন,
— মা কি কেবল মূর্তিতেই থাকেন? মা কি তোদের মধ্যে নেই? যারা নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও শুধু লোকের চাহিদা মেটানোর জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয়, তার থেকে মহান আর কে? তোদের জন্য সমাজে ধর্ষণ কম হয়। তোরাই আসল মা। তাই তো শাস্ত্রে লেখা আছে, তোদের বাড়ির মাটি দিয়েই মায়ের মূর্তি হবে।
মায়া আর কিছু বলল না। চুপচাপ ঘরের ভেতর থেকে এক মুঠো মাটি এনে বৃদ্ধের হাতে দিল।
বৃদ্ধ চলে যাওয়ার পর মায়া অনেকক্ষণ দরজার চৌকাঠ ধরে দাঁড়িয়ে রইল। দূরে তখন মণ্ডপে বাঁশ পড়ছে, ঢাকের দোকানে চামড়া টানানোর শব্দ।
যে সমাজ তাকে অপবিত্র বলে, সেই সমাজের দেবীই তার দোরগোড়ার মাটি ছাড়া সম্পূর্ণ হন না।
মায়া আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "মা, আমার মেয়েটাকে ভালো রেখো।"
পোস্টটি কিছুটা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সংগৃহীত

তাই শহরের এক কোণে তৈরি হয়েছে পতিতালয়। সেই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে কিছু নারী—যাদের নাম সমাজ খুব সহজেই দিয়ে দেয়, "বেশ্যা"।
সমাজ তাদের ছোঁয়াকে অস্পৃশ্য করে দিয়েছে। অথচ তাদের বাড়ির মাটি দিয়েই তৈরি হয় মায়ের মূর্তি।
কলকাতার এক পুরোনো গলির শেষ মাথায় থাকত মায়া, একজন দেহব্যবসায়ী। সারাদিন তার বিশাল ডিমান্ড। রাত হলে মুখে কাপড় বেঁধে অনেক ভদ্র বাড়ির ছেলেরাও আসে। যাদের শরীরটাই সম্বল, তাদের ভালো-মন্দের খোঁজ কেউ রাখে না।
কেউ জানত না, এই মায়ারও একটা মেয়ে ছিল। এখানে থাকলে তার মেয়েকেও একদিন এই অভিশপ্ত কাজে নামতে হবে, তাই সে তাকে অনেক দূরে এক অনাথ আশ্রমে দিয়ে এসেছে। বাবার পরিচয় জানা নেই, এমন মানুষদের ঠাঁই তো ওখানেই হয়।
পুজোর দিনে মায়ার খুব মেয়ের কথা মনে পড়ে। সকালে যখন ধূপ জ্বালিয়ে রেডিয়োতে মহালয়া শোনে, মনে হয় মেয়েটা থাকলে কত আনন্দ করত। চোখে জল চলে আসে।
এবার জন্মাষ্টমীর কয়েকদিন আগে খুব সকালে মায়ার বাড়িতে কড়া নাড়ার শব্দ হলো।
দরজা খুলে দেখল এক বৃদ্ধ।
— কী দাদু, এখানে?
— মা, একটু মাটি লাগবে।
— মাটি দিয়ে কী করবেন?
— ওই যে মা-কে গড়ব।
— কোন মা?
— ওই যে আমার, তোমার, সবার মা। মা দুর্গা।
মায়া একটু হেসে বলল,
— আচ্ছা দাদু, সমাজ তো আমাদের ছুঁতেও ঘেন্না করে। আমাদের ছায়াও মাড়াতে চায় না। আর সেই আমার বাড়ির মাটি দিয়ে হবে মায়ের মূর্তি?
বৃদ্ধ বললেন,
— মা কি কেবল মূর্তিতেই থাকেন? মা কি তোদের মধ্যে নেই? যারা নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও শুধু লোকের চাহিদা মেটানোর জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয়, তার থেকে মহান আর কে? তোদের জন্য সমাজে ধর্ষণ কম হয়। তোরাই আসল মা। তাই তো শাস্ত্রে লেখা আছে, তোদের বাড়ির মাটি দিয়েই মায়ের মূর্তি হবে।
মায়া আর কিছু বলল না। চুপচাপ ঘরের ভেতর থেকে এক মুঠো মাটি এনে বৃদ্ধের হাতে দিল।
বৃদ্ধ চলে যাওয়ার পর মায়া অনেকক্ষণ দরজার চৌকাঠ ধরে দাঁড়িয়ে রইল। দূরে তখন মণ্ডপে বাঁশ পড়ছে, ঢাকের দোকানে চামড়া টানানোর শব্দ।
যে সমাজ তাকে অপবিত্র বলে, সেই সমাজের দেবীই তার দোরগোড়ার মাটি ছাড়া সম্পূর্ণ হন না।
মায়া আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "মা, আমার মেয়েটাকে ভালো রেখো।"
পোস্টটি কিছুটা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সংগৃহীত
