Ayann
Wellknown Ace
আর কিছু দিন পর অলোর উৎসব আসবে ।
চারিদিকে শিউলি ফুলের গন্ধ আর ঢাকের আওয়াজ জানান দেবে মা দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটছে। কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বিশাল সব প্যান্ডেল মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। নতুন জামা-কাপড়ের গন্ধ, আলোর রোশনাই আর আনন্দে মেতে উঠবে গোটা শহর। সবাই নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা করছে—কে কোন দিন কোন প্যান্ডেলে যাবে, বন্ধুদের সাথে কোথায় খাওয়াদাওয়ার আসর জমবে। সবার ঘরে ঘরে আনন্দের জোয়ার।
কিন্তু, এই উৎসবের আনন্দমুখর পরিবেশ থেকে অনেক দূরে, মাটির প্রতিমার এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা অবয়বটির মনের ভেতর তখন এক গভীর অন্ধকার বিষাদ জমে উঠেছে। কারণ আমিই তো সেই অলক্ষ্যে থাকা চরিত্র, আমি অসুর। হ্যাঁ, আমি অসুর—সবার জন্য এই উৎসবের দিনগুলো কত আনন্দের, আর আমার জন্য এটা অবধারিত মরণ দিন।
শিল্পী যখন তুলির শেষ টানে দেবী দুর্গার চোখ ফুটিয়ে তুলছেন, ঠিক তখনই আমার বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। আমি মনে মনে ভাবলাম, "বছরের পর বছর ধরে আমি তো কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনে অবধারিতভাবে মরে যাওয়ার জন্যই বেঁচে উঠি। আমি অসুর, তাই এই আনন্দ-উৎসবে আমার কোনো অধিকার নেই।
"প্রতিটি মণ্ডপে যখন ঢাকের আওয়াজ আর মন্ত্রোচ্চারণে চারদিক মুখরিত হবে, তখন সবাই দেবীর মহিমায় বিভোর থাকবে। আর সিংহের থাবার নিচে, দেবীর ত্রিশূলের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়া আমার এই অসুরের রূপটি দেখে সবাই পাপের বিনাশ উদযাপন করবে। কেউ কি একবারও ভেবে দেখে, বিজয়ের এই উৎসবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই পরাজিত সত্তাটির কষ্টের কথা?
আমি আমার মাটির শরীরের ভেতরে এক অদ্ভুত অনুভূতি টের পেলাম। আমি দেবীর দিকে তাকালাম। দেবী দুর্গার দশ হাতে দশটি মারণাস্ত্র, চোখে অসীম তেজ, কিন্তু সেই তেজের গভীরে যেন মিশে আছে এক অলৌকিক মাতৃত্বের করুণা।
আমি মনে মনে দেবীকে ডেকে বললাম, "মা, তুমি তো জগতের জননী। তবে আমার এই নিয়তি কেন? আমি জন্ম নিই অহংকার আর অন্ধকারের প্রতীক হয়ে, আর শেষ হই তোমার হাতের এক আঘাতে। আমি অসুর বলে কি আমার কোনো আর্তি নেই? সবাই যখন মেতে উঠবে উৎসবে, আমার নিয়তি তখন শুধুই মৃত্যু আর পরাজয়ের গ্লানি।"
চারিদিকে শিউলি ফুলের গন্ধ আর ঢাকের আওয়াজ জানান দেবে মা দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটছে। কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বিশাল সব প্যান্ডেল মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। নতুন জামা-কাপড়ের গন্ধ, আলোর রোশনাই আর আনন্দে মেতে উঠবে গোটা শহর। সবাই নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা করছে—কে কোন দিন কোন প্যান্ডেলে যাবে, বন্ধুদের সাথে কোথায় খাওয়াদাওয়ার আসর জমবে। সবার ঘরে ঘরে আনন্দের জোয়ার।
কিন্তু, এই উৎসবের আনন্দমুখর পরিবেশ থেকে অনেক দূরে, মাটির প্রতিমার এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা অবয়বটির মনের ভেতর তখন এক গভীর অন্ধকার বিষাদ জমে উঠেছে। কারণ আমিই তো সেই অলক্ষ্যে থাকা চরিত্র, আমি অসুর। হ্যাঁ, আমি অসুর—সবার জন্য এই উৎসবের দিনগুলো কত আনন্দের, আর আমার জন্য এটা অবধারিত মরণ দিন।
শিল্পী যখন তুলির শেষ টানে দেবী দুর্গার চোখ ফুটিয়ে তুলছেন, ঠিক তখনই আমার বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। আমি মনে মনে ভাবলাম, "বছরের পর বছর ধরে আমি তো কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনে অবধারিতভাবে মরে যাওয়ার জন্যই বেঁচে উঠি। আমি অসুর, তাই এই আনন্দ-উৎসবে আমার কোনো অধিকার নেই।
"প্রতিটি মণ্ডপে যখন ঢাকের আওয়াজ আর মন্ত্রোচ্চারণে চারদিক মুখরিত হবে, তখন সবাই দেবীর মহিমায় বিভোর থাকবে। আর সিংহের থাবার নিচে, দেবীর ত্রিশূলের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়া আমার এই অসুরের রূপটি দেখে সবাই পাপের বিনাশ উদযাপন করবে। কেউ কি একবারও ভেবে দেখে, বিজয়ের এই উৎসবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই পরাজিত সত্তাটির কষ্টের কথা?
আমি আমার মাটির শরীরের ভেতরে এক অদ্ভুত অনুভূতি টের পেলাম। আমি দেবীর দিকে তাকালাম। দেবী দুর্গার দশ হাতে দশটি মারণাস্ত্র, চোখে অসীম তেজ, কিন্তু সেই তেজের গভীরে যেন মিশে আছে এক অলৌকিক মাতৃত্বের করুণা।
আমি মনে মনে দেবীকে ডেকে বললাম, "মা, তুমি তো জগতের জননী। তবে আমার এই নিয়তি কেন? আমি জন্ম নিই অহংকার আর অন্ধকারের প্রতীক হয়ে, আর শেষ হই তোমার হাতের এক আঘাতে। আমি অসুর বলে কি আমার কোনো আর্তি নেই? সবাই যখন মেতে উঠবে উৎসবে, আমার নিয়তি তখন শুধুই মৃত্যু আর পরাজয়ের গ্লানি।"